প্রতিষ্ঠার ৬০ বছর পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মিত হচ্ছে টিএসসি; ব্যয় ৪৯ কোটি টাকা

ক্যাম্পাস-২৪ স্টাফ

৩ মিনিটে পড়ুন২৫

প্রতিষ্ঠার ৬০ বছর পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মিত হচ্ছে টিএসসি; ব্যয় ৪৯ কোটি টাকা
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

প্রতিষ্ঠার ৬০ বছর পর প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসে নির্মিত হতে যাচ্ছে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি)। প্রায় ৪৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন হতে যাওয়া সরকারি অর্থায়নের এ প্রকল্পটি বর্তমানে চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশন ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) সূত্রে জানা গেছে, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র নির্মাণ’ শীর্ষক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদনের শেষ ধাপে রয়েছে। প্রকল্পটির ব্যয় ৫০ কোটি টাকার কম হওয়ায় প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী পরিকল্পনামন্ত্রীর অনুমোদনের মাধ্যমে এটি চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে। চলতি মাসের মধ্যেই অনুমোদন মিলতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে প্রায় ১০ হাজার ৪৮০ বর্গমিটার আয়তনের পাঁচতলা ভবনটি নির্মাণ করা হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় একাডেমিক উপকরণ ও বিভিন্ন সেবা ক্যাম্পাসেই নিশ্চিত করার পাশাপাশি শহরের ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

টিএসসিতে যেসব সুবিধা থাকবে

প্রস্তাবিত টিএসসিতে থাকবে আধুনিক ডিজিটাল লাইব্রেরি, পাঠকক্ষ, পড়াশোনার নির্ধারিত স্থান, বইয়ের দোকান এবং একাডেমিক বই ও গবেষণাসামগ্রী সংগ্রহের সুযোগ। এছাড়া কনভেনিয়েন্স স্টোর, এটিএম বুথ, প্রিন্টিং ও ফটোকপি সেবা, ক্যাফেটেরিয়া এবং রেস্তোরাঁর ব্যবস্থাও রাখা হবে।

একাডেমিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য লেকচার হল, সেমিনার কক্ষ এবং কর্মশালা আয়োজনের উপযোগী স্থান থাকবে। একই সঙ্গে প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সুবিধার্থে র‍্যাম্প, প্রবেশগম্য লিফট ও উপযোগী শৌচাগার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া মাতৃদুগ্ধ পান করানোর কক্ষ, নামাজের কক্ষ, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা, ২০০ কেভিএ জেনারেটর, দুটি যাত্রীবাহী লিফট এবং আধুনিক অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থাও থাকবে।

একাডেমিক ও গবেষণায় নতুন মাত্রা

প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ হাজার ৩১২ দশমিক ৩২ একর ক্যাম্পাসে ২৬ হাজার ৬৭৮ জন শিক্ষার্থী এবং ১ হাজার ১০ জন শিক্ষক রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় এই কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, টিএসসি চালু হলে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য একাডেমিক যোগাযোগ, গবেষণা কার্যক্রম এবং বুদ্ধিবৃত্তিক পরিবেশ আরও সমৃদ্ধ হবে। একই সঙ্গে শিক্ষাসামগ্রী ও গবেষণাসংশ্লিষ্ট উপকরণ সহজলভ্য হওয়ায় শহরে যাওয়ার প্রয়োজনও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

প্রতিদিন সেবা পাবেন প্রায় ২ হাজার মানুষ

প্রকল্পের যৌক্তিক কাঠামো অনুযায়ী, টিএসসি চালু হওয়ার পর প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষক বিভিন্ন ধরনের সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। এছাড়া শিক্ষাসামগ্রী ও গবেষণা সাময়িকী সংগ্রহের জন্য চট্টগ্রাম শহরের ওপর নির্ভরতা অন্তত ৫০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকল্পটি ২০২৯ সালের ৩০ জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ৪৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, যার মধ্যে ভবন নির্মাণেই ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪৩ কোটি টাকা।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, দীর্ঘদিনের শিক্ষার্থীদের দাবির বাস্তবায়নের পাশাপাশি এই টিএসসি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আধুনিক একাডেমিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।

তিনি বলেন, শহর থেকে দূরে অবস্থিত হওয়ায় শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় শিক্ষাসামগ্রী ও রেফারেন্স বই সংগ্রহে সমস্যায় পড়ছেন। পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষের বাইরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক যোগাযোগ ও সুস্থ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোরও অভাব ছিল। নতুন টিএসসি নির্মিত হলে এসব সীমাবদ্ধতা অনেকটাই দূর হবে এবং একাডেমিক ও গবেষণার সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে।

পরিকল্পনা কমিশনের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রকল্পটির যাচাই-বাছাই কার্যক্রম ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। গত ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভার সুপারিশ অনুযায়ী ডিপিপি সংশোধন করে পুনরায় পরিকল্পনা কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এটি চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

আরও পড়ুন